সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
পুরোনো ছবি অনলাইন ডেস্ক:: জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের জন্য যে গণভোট হতে যাচ্ছে, তাতে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকারই প্রচার চালাবে। এরই মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়সহ সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের মাধ্যমে প্রচার শুরুও হয়েছে। প্রচার জোরদারে দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারার জন্য উৎসাহ দিতে সরকার প্রচারণার অন্যতম মাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়ায় ফটোকার্ডও প্রকাশ করেছে। গণভোট ঘিরে সরকারের এ অবস্থান নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণভোটে সরকার একটি অংশ। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য থাকায় সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বরাত দিয়ে তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, সরকার নিজেই হ্যাঁ ভোটের জন্য প্রচার চালাবে। এক্ষেত্রে আইনগত কোনো বাধা নেই। গতকাল রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সরকার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করবে ও সচেতনতা তৈরি করবে। সরকার এ বিষয়ে টপ লিগ্যাল এক্সপার্টদের কাছ থেকে মতামত নিয়েছে। তারা লিখিতভাবে সরকারকে জানিয়েছে যে, সরকার চাইলে প্রচার চালাতে পারে, এ বিষয়ে কোনো আইনগত বাধা নেই।’
গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে সিল মারার জন্য উৎসাহ দিতে ফটোকার্ড প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে ফটোকার্ড প্রকাশের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আটটি ফটোকার্ড শেয়ার করা হবে। গণভোটের প্রচারণার অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। ফটোকার্ডে লেখা রয়েছে, আমাদের সবার স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবে গড়ার জন্য হ্যাঁ-তে সিল দিন।
জানতে চাইলে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মো. আব্দুল আলীম কালবেলাকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার তো সংস্কারের সরকার। এ সরকারের প্রধান এজেন্ডা ছিল সংস্কার। সরকার এত সংস্কার কমিশন করেছে। ঐকমত্য কমিশন গঠন ও জুলাই সনদের উদ্যোগ নিয়েছে। জুলাই সনদের বিষয়গুলোর পক্ষে কাজ করা, কথা বলা, দেশকে পরিবর্তন করতে সরকার তো একটা অংশ। জুলাই সনদের কমপক্ষে ৩০টি ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগে যে গণভোটগুলো হয়েছিল, সেখানে সরকার গণভোটের পক্ষেই কথা বলছিল। সাধারণত সারা দুনিয়াতেই সরকার গণভোটের পক্ষেই কথা বলে। এ গণভোটেও সরকার একটি অংশ। তাই এটাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হওয়ার কোনো সুযোগ আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। এই প্রশ্ন তোলারই সুযোগ নেই।
এদিকে, সত্যি সংস্কার চাইলে গণভোটে হ্যাঁ বলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি যে দ্বিতীয় ভোটটা দেবেন, সেটা হচ্ছে গণভোট। এটা হচ্ছে বাংলাদেশের ক্ষমতার বাঁককে শাসকগোষ্ঠীর থেকে সরিয়ে জনগণের দিকে বাঁকানোর একটি সিদ্ধান্তের সময়। এ গণভোটে অবশ্যই সবাই অংশ নেবেন এবং যদি সত্যি সংস্কার চান, তাহলে উত্তরটা আমাদের হ্যাঁ বলতে হবে।
অন্যদিকে, উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, যদি আমরা আবারও গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও আয়নাঘরের দিনগুলোতে ফিরে যেতে না চাই, আমাদের গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিতে হবে, হ্যাঁ ভোট দিতে হবে এবং পছন্দের গণপরিষদ সদস্য নির্বাচিত করতে হবে।
এ ছাড়া গতকাল বরিশালে এক অনুষ্ঠানে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-ভোট দেওয়ার উপকারিতা কী, তা মানুষকে জানাতে ইমামদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ। গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্যান্য ভোট যেমন ব্যক্তিকে দেওয়া হয়, গণভোট তেমন নয়। এটি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ কেমন হবে, তারই রূপরেখা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য গণভোটের ব্যালট পেপারে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ চারটি প্রস্তাব থাকবে। এসব প্রশ্নের বিপরীতে ভোটারদের কাছে শুধু একটি ঘরে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট চাওয়া হবে।